তারুণ্যের ভোটে নতুন মোড়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর এমন একটি জাতীয় নির্বাচন সামনে এসেছে, যাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যন্ত “প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক” বলে আখ্যা দিচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০০৯ সালের পর অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বিরোধী দলের বয়কট, সীমিত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক পরিবেশের সংকীর্ণতা নির্বাচনকে সাধারণ ভোটারের আস্থা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন সেই ধারাবাহিকতার এক স্পষ্ট ছেদ টেনেছে।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তরুণ ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি। মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ‘জেন-জি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম কেবল মুখের কথা নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। স্বচ্ছ নির্বাচন, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎমুখী অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—এগুলোই তাদের মূল চাওয়া।
রাজনৈতিক সমীকরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বিএনপি বড় শক্তি হিসেবে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী ও নতুন রাজনৈতিক জোটগুলোর উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠকে বহুমাত্রিক করেছে। বিশেষ করে জামায়াতের সম্ভাব্য ভালো ফলাফল দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান প্রমাণ করে, জনগণ বিকল্প খুঁজছে।
এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের প্রশ্ন নয়। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চীন ও ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও অনেকাংশে নির্ভর করবে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
সবচেয়ে বড় কথা, এই নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়, তাহলে তা কেবল একটি সরকার নয়—গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের হারানো আস্থাও ফিরিয়ে আনতে পারে। তারুণ্যের এই ভোট যদি পরিবর্তনের পক্ষে যায়, তবে বাংলাদেশ সত্যিই একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।




