ইলিশ সিন্ডিকেটে ছেঁদ, সরকারকে অভিনন্দন...

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ—শুধু একটি মাছ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের নদীর সৌন্দর্য, এবং লাখো মানুষের জীবিকার অংশ। আর চাঁদপুর—যেখানে পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলে ইলিশের পদধ্বনি, সেই জেলাই পরিচিত 'ইলিশের বাড়ি' নামে। অথচ এই চাঁদপুরেই সাধারণ মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে না। কারণ একটাই—সিন্ডিকেট।
গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বলছেন, নদীতে মাছ কমেছে, আবার যারা মাছ ধরছেন তারাও সিন্ডিকেটের চাপে ইচ্ছেমতো দাম বসাতে পারছেন না। ফলাফল, এক কেজি ইলিশের দাম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা—যা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সদ্য নেওয়া উদ্যোগগুলো এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন সাহসিকতার সঙ্গে সরাসরি ইলিশ সিন্ডিকেটকে দায়ী করে বলেছেন—"জিরো ইনভেস্টমেন্টে সিন্ডিকেট করে ইলিশের দাম বাড়ানো হচ্ছে।" তিনি আরও ঘোষণা দেন, ইলিশের ঘাঁটি চাঁদপুরে থাকাকালীন সময়েই তিনি এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে ইলিশের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রস্তাবে শুধু চাঁদপুর নয়, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলা গুলোতেও ইলিশের দাম নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ, ইলিশ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ, যার উৎপাদন খরচ নেই। তবুও বছরের পর বছর সিন্ডিকেট এই মাছকে বিলাসবহুল করে তুলেছে।
এই সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি সরকার ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানেও নজিরবিহীন কঠোরতা প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছে। এবার সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ এমনকি ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরাও ইলিশ রক্ষা অভিযানে অংশ নেবেন। বরফকল বন্ধ থাকবে, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরলে জেল হবে—এমন ঘোষণাগুলো আশাব্যঞ্জক।
তবে, শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা দিলেই হবে না। বাস্তবায়নের সময় যে সিন্ডিকেটের প্রতিক্রিয়া আসবে, সেটাও মোকাবিলা করতে হবে পরিকল্পিতভাবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের সাধারণ মানুষ যাতে ন্যায্য দামে ইলিশ কিনতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। ইলিশ শুধু ঢাকার ধনীদের খাবার হয়ে উঠলে জাতীয় মাছের মর্যাদা হারিয়ে যাবে।
আমরা আশা করি, এই উদ্যোগগুলো শুধু সিদ্ধান্ত পর্যায়ে আটকে থাকবে না, বাস্তবায়নে হবে কার্যকর ও সমন্বিত। ইলিশ যেন আবারও চাঁদপুরবাসীর নিত্য খাবারে ফিরে আসে, নদীর ধারে বসে মানুষ যেন ইলিশ ভাজির ঘ্রাণে মুগ্ধ হতে পারে—এই হোক আমাদের লক্ষ্য।
চাঁদপুর সকাল পরিবারের পক্ষ থেকে সরকার ও জেলা প্রশাসনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।




