চাঁদপুর সকাল

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন : আস্থা ফিরিয়ে আনার সময় এখনই

৫ মাস আগে
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন : আস্থা ফিরিয়ে আনার সময় এখনই

আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি নতুন করে সরব হয়ে উঠছে। এটি কেবল একটি নির্বাচনী আয়োজন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় আমরা কতটা সফল হব, তার ওপর নির্ভর করবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, রাজনীতির আস্থা, ও জনগণের বিশ্বাস কতটা পুনর্গঠিত হবে।

আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচন কেবল ভোটের দিনে নয়—এর আগে থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হয়: ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও আস্থা তৈরি, এবং রাজনৈতিক সংলাপের পরিবেশ গঠন এই প্রতিটি ধাপই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখানে মুখ্য। কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগ, জবাবদিহি ও উন্মুক্ত যোগাযোগ জনগণের আস্থা বাড়াতে পারে। অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারলে ইসি সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনের নিরপেক্ষতাও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত। প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ কমে যায়, এবং জনগণের অংশগ্রহণও হ্রাস পায়। নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের উচিত বিরোধী দলকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া, আর বিরোধী দলের উচিত নির্বাচন বর্জনের পরিবর্তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, সংঘাতে নয়। সংলাপ ও সহনশীলতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নির্বাচনের পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখতে পারে। আমরা চাই, সংবাদমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং ভয়ের সংস্কৃতি বা প্রোপাগান্ডা যেন না ছড়ায়।

নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকেও সক্রিয় হতে হবে। তারা যদি অংশ নেয়, ভোট দেয়, প্রশ্ন তোলে এবং স্বচ্ছতার দাবি জানায় তাহলে নির্বাচনের প্রকৃত মালিকানা জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাও রাজনীতির আস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিত্যপণ্যের দাম, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সেবার মান যদি নাগরিকের কাছে অনিশ্চিত থাকে, তবে কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। তাই নির্বাচনের আগে থেকেই বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—যা মানুষ চোখে দেখতে পারে, জীবনে অনুভব করতে পারে।

আমরা মনে করি, গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হলো অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। এর জন্য দরকার স্বচ্ছতা, আলোচনার মনোভাব, এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। নির্বাচন যেন ভয়ের প্রতীক না হয়ে, মানুষের আস্থার উৎসব হয়ে ওঠে—এটাই হোক ২০২৬ সালের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাস রক্ষা করা এখন রাজনীতির সকল পক্ষের দায়িত্ব। সময় আছে হাতে, কিন্তু সময় খুব বেশি নয়। এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে রাজনীতিতে, রাষ্ট্রে, এবং ভবিষ্যতে।