সুদের ফাঁদে নির্মম মৃত্যু : সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

সুদের ব্যবসা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে সমাজের নিরীহ মানুষ এ অমানবিক ব্যবসার শিকার হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমান সভ্য যুগে এসে যখন সুদের টাকা নিয়ে বিবাদ থেকে মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা নয় বরং সমাজকে বর্বরতার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ারই নামান্তর।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উপাদিক গ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। শাহনাজ বেগম নামের এক গৃহবধূকে সুদের টাকা ও স্ট্যাম্পের জেরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী নাছিমা বেগমের বিরুদ্ধে। মারাত্মকভাবে দগ্ধ শাহনাজ শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযুক্তের ঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
প্রশ্ন হলোএ কোন সমাজ আমরা গড়ে তুলছি? অর্থের লোভে মানুষ যখন প্রতিবেশীকে পুড়িয়ে মারতে দ্বিধা করে না, তখন বোঝা যায় সুদের ব্যবসা কেবল অর্থনৈতিক শোষণ নয়, এটি সামাজিক অস্থিরতারও অন্যতম কারণ। সুদের টাকা শোধ করতে না পারা মানুষ মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে, পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে, আর শেষ পর্যন্ত নৃশংস ঘটনার জন্ম দেয়।
এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া জরুরি। সুদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়। একইসাথে মানুষকে বিকল্প সমবায়ী সঞ্চয় ও ঋণ ব্যবস্থার দিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আমরা মনে করি শাহনাজ বেগমের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং গোটা সমাজের জন্য সতর্কবার্তা। যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সুদের ফাঁদে আরও নিরপরাধ প্রাণ ঝরে যাবে, আর সমাজ ক্রমেই সহিংসতার দিকে ধাবিত হবে।




