তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমি মিলনের হাতে ধানের শীষ তুলে দিচ্ছি : ড. মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউসুছ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে নির্বাচন হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। এখানে এসে যে দৃশ্য দেখেছি, সাধারণ জনগণ নির্বাচন চায়, গণতন্ত্র চায়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনা করবেন।
কচুয়াবাসীর উদ্দেশ্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ৪৫ বছর আগ থেকে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে আমি চিনি। আপনারা সঠিক একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেছেন। আমি মিলনের হাতে ধানের শীষ তুলে দিলাম। ইতোমধ্যে আপনারা আজকের এই জনসভার উপস্থিতির মাধ্যমে আপানাদের নেতা মিলনকে বিজয়ী করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত হবে। আপনাদের নেতা নাজমুন নাহার বেবী শুধু মিলনের সহধর্মিণী নয়, তিনি জাতীয়তাবাদীর শক্তির নেত্রী। সারা কচুয়া থেকে দলে দলে আজকের এই মহাসমাবেশে এসেছেন আগামীর নির্বাচনের দিন আপনারা প্রত্যেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে এই আসনটি উপহার দিবেন।
শনিবার (২২ নভেম্বর, ২৫০৫ খ্রি.) বিকেলে কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ধানের শীষের নির্বাচনি প্রচারণামূলক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান আরো বলেন, বিগত ১৫ বছর ভোট দিতে পারেন নাই, তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ বছর বয়সী যুবক-যুবতী সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং আপনাদের ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। আওয়ামী লীগ মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে দিনের ভোট রাতে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় ছিল। দেশের মানুষ এখন নির্বাচনমুখী, যারা নির্বাচনের নামে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়, মানুষ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের সময়ে মিথ্যা, হামলা, মামলা, গুম, হত্যা, নির্যাতনের কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষ অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তাই ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের কর্মীদের বিপদে ফেলে কা-পুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ষড়যন্ত্র চলছে নির্বাচন ঘিরে। কচুয়াবাসীকে সাথে নিয়ে এই ষড়ষন্ত্র মোকাবেলা করবো আমরা। নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায় ষড়ষন্ত্রকারীরা। আমাদের নেতার সাথে রাজনীতি ও চালাকি করে লাভ নেই। যখন কেউ কেউ বলছেন নির্বাচন পরে করতে হবে। নতুন নতুন দল সৃষ্টি হয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়, নির্বাচন বয়কট করবে বলে হুশিয়ারি দেয়, তখনই আমাদের নেতা তারেক রহমান সারাদেশের দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। আপনাদের সমর্থন নিয়ে এই কচুয়া আসনটি আমাদের নেতা তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খাইরুল আবেদীন স্বপনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক শাহজালাল প্রধান ও কচুয়া উত্তর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজীর যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার বেবী, মাওলানা শাহ নেসারুল হক ও ওলামা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাওলানা আবুল হোসেন প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ মোল্লা, কচুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল প্রধান আবেগ, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন আজাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমুখ।




