মতলব দক্ষিণে চতুর্থ স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন : সেফটি ট্যাংকি থেকে লাশ উদ্ধার

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,ঘোড়াধারী গ্রামের কালু পাটোয়ারীর মেয়ে রুপালী বেগমের সাথে বিগত একবছর আগে পটুয়াখালীর জামাল গাজী নামক ব্যক্তির ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয়, সম্পর্ক ও পরে বিয়ে হয়। এর আগেও রুপালি বেগমের ৩ টি বিয়ে হয়। তাদের ওই সংসারে ৫ সন্তান রয়েছে। মোঃ জামাল গাজীর সাথে বিয়ের পর থেকেই পরিবারের অন্যান্যদের সাথে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। যা এ হত্যাকান্ড ঘটার পূর্ব পর্যন্ত চলমান ছিল। তাদের বাড়ীটি আলাদা অর্থাৎ একক হওয়ায় তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হলেও আশপাশের মানুষ জানতো না। গত বৃহস্পতিবার রুপালি বেগমের বড় ছেলে টিপু পাটোয়ারী ও তার স্ত্রীর সাথে জামাল গাজীদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। কোন একটি বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জামাল গাজী ও স্ত্রী রুপালি বেগমের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে রুপালির লাশ নিজ বাড়ীর সেফটি ট্যাংকির ভিতর লুকিয়ে রেখে ওই বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত রুপালী বেগমের ছেলে টিপু বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২ টা বাজে। শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে জেগে ওঠে দেখতে পাই আমার মাকে মারছে তার বর্তমান স্বামী জামাল গাজী। আমি গিয়ে দুজনকে থামিয়ে দিয়ে আসার পর ঘুমিয়ে পরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের ঘরে গিয়ে দেখি তারা কেউই ঘরে নেই। না পেয়ে তাদের মোবাইলে ফোন করা হলে মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সারাদিন বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করেও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি তাদের। শুক্রবার রাতে আমার নানিও কান্না করতে করতে মাকে খুজতে থাকে। হঠাৎ করে সেফটি ট্যাংকির দিকে নজর করলে দেখা যায় ঢাকনা একটু ফাঁকা। সেখানে গিয়ে সেফটি ট্যাংকির ঢাকনা সরানোর পর দেখতে পাই আমার মায়ের লাশ পড়ে আছে।সাথে সাথে ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের শত শত মানুষ এগিয়ে আসে এবং মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে রাতেই থানার পুলিশ গিয়ে সেফটি ট্যাংকি থেকে মায়ের মৃত দেহ উদ্ধার করেন।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালেহ আহাম্মদ বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে তাদের বাড়ির সেফটি ট্যাংকি থেকে লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয় । লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় নিহত রূপালী বেগমের বড় ছেলে টিপু পাটোয়ারী বাদী হয়ে জামাল গাজীকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীকে গ্রেফতার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




