মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি : ১০ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি সেচ কার্যক্রম উদ্বোধনের পরপরই পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে কালীপুর ও উদামদী পাম্প হাউজে আনুষ্ঠানিকভাবে পানি চালু করা হলেও ফটোসেশন শেষ হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ পাম্পের সুইচ বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি সেচ কার্যক্রম বুধবার বিকেল ৩টায় উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (চ. দা.) মো. সেলিম শাহেদ এবং পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ শাহীন চৌধুরী।
উদামদী পাম্প হাউজে উদ্বোধনের পর প্রায় ১৫ মিনিট পানি চললেও কালীপুর পাম্প হাউজে মাত্র ৪০ মিনিট পরই পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। কৃষকদের অভিযোগ, সেচ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে কখন তারা পানি পাবেন সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।
মেঘনা-ধনাগোদা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি উপজেলার প্রায় ১৭ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমিতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে তা শেষ হয়। মূল লক্ষ্য ছিল বোরো ধানের উৎপাদন বাড়ানো। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুমের শুরুতে অধিকাংশ বছরই তারা সময়মতো সেচ সুবিধা পান না। ফলে প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় এবং ১৫ ডিসেম্বর থেকে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু করার কথা। চারার বয়স ২১ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে রোপণ করতে হয়, এর বেশি হলে ফলন কমে যায়।
এই হিসাবে ১৫ নভেম্বর বীজতলা করলে ২৫ ডিসেম্বরেই চারার বয়স ৪০ দিন হয়। অথচ এখন জানুয়ারির শুরু পেরিয়ে গেলেও সেচ না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখনও চারা রোপণ করতে পারেননি। অনেকের চারার বয়স ইতোমধ্যে ৬০ দিন ছাড়িয়ে গেছে। এতে এবছর বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর মতলব উত্তর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি। কৃষকরা সেই অনুযায়ী বীজতলা প্রস্তুত করলেও সেচ সুবিধা না পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের বিভিন্ন স্থানে এখনো ব্লক নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ। অনেক জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ চলছে। এতে পানি সরবরাহ পুরোপুরি চালু করা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দ্রুত সেচ কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, উদ্বোধন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ না দিলে বোরো মৌসুমে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে পুরো অঞ্চল।
একাধিক কৃষক বলেন, পানি কবে দেবে আমরা জানি না। আমাদের বীজতলার চারা বড় হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো জমিতে রোপণ করতে না পারলে ভালো ফলন হবে না। আমরা বড় লোকসানে পড়ে যাবো।
তারা আরও জানান, বিকল্প হিসেবে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত পাম্প দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে, এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাছাড়া খাল ও বিলের পানিও এখন প্রায় শুকিয়ে গেছে।
কালিপুর পাম্পের অপারেটর পঙ্কজ বলেন, বিকেল ৪টার দিকে পাম্প চালু হয়েছিল এবং ৪টা ৪৫ মিনিটে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, আজ সেচ প্রকল্পের পানি উদ্বোধন করা হবে এ বিষয়ে আমাকে
জানানো হয়নি।
পানি ব্যবহারকারী ফেডারেশনের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ শাহীন চৌধুরী বলেন, উদ্বোধনের পর প্রায় এক ঘণ্টার মতো পানি চালু ছিল। প্রথম দিনের উদ্বোধন হওয়ায় পরে বন্ধ করা হয়েছে। শিগগিরই আবার চালু করা হবে।
অন্যদিকে, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (চ. দা.) মো. সেলিম শাহেদ বলেন, পানি উদ্বোধনের পর আমি চলে এসেছি। পাম্প বন্ধ করার কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে আপনাদের জানাবো।




