জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চাঁবিপ্রবি) র্যালি, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াবদাগেটসংলগ্ন অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। র্যালিটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিচারণ ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি। এসব তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করা যেতে পারে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়; এটি ছিল একটি সরকার পতনের আন্দোলন। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ইতিহাসকে খাটো করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী আন্দোলনের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।




