চাঁদপুর সকাল

বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ফিরছে আগের দামে

প্রায় ৮ ঘন্টা আগে
বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ফিরছে আগের দামে
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দিনই আবাসিকের নিচের স্তরে দুই ধাপের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি। ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী (লাইফলাইন) এবং প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত পূর্বের দাম বহাল রাখার আবেদন করা হয়েছে। আবার ০ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি স্লাব চালুর কথাও আবেদনে বলা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকের আগের দর ৪ দশমিক ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৩২ টাকা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ১৮ টাকা ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা পিডিবির নতুন আবেদন পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এখন কমিশন নতুন একটি আদেশ দেবে। এতে সরকারের ভর্তুকি কিছুটা বাড়লেও প্রান্তিক গ্রাহক উপকৃত হবেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত প্রান্তিক (লাইফ লাইন) গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত ট্যারিফের প্রতিফলন ঘটেনি —যা বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করে এর ফলে প্রান্তিক গ্রাহকেরা (লাইফলাইন), বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

দেশের নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকের (লাইফলাইন) জন্য পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করে প্রান্তিক গ্রাহকদের (লাইফলাইন) জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ০৩/০৫/২০২৬ তারিখে প্রেরিত প্রস্তাবের আলোকে পুনর্নির্ধারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ হতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) অনুরোধ করে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করা যায় বিইআরসি এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

হতদরিদ্র, নিম্ন আয় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে লাইফলাইন গ্রাহক সৃষ্টি করা হয়। একটি ৩০ ওয়াটের লাইট ও একটি ফ্যান দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করেন তেমন গ্রাহকেরা এই বিলের আওতায় পড়েন।

গত বছর জুনের হিসাব অনুযায়ী ১ কোটি ৮৬ লাখ লাইফলাইন গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৮৭ শতাংশ, বিপিডিবির ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, নেসকো ৪ শতাংশ, ওজোপাডিকো ৩ শতাংশ। লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে কম রাজধানী ঢাকায়; ডিপিডিসির ১ শতাংশ এবং ডেসেকোর দশমিক ৫ শতাংশের মতো।