শাহরাস্তিতে মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ : আহত-৫

শাহরাস্তিতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরোধের জের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন মুসল্লী আহত হয়। উপজেলার মেহার উত্তর ইউনিয়নের দেবিপুর জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।
উভয় পক্ষের আহতরা হলেন, আলমগীর হোসেন সুমন (৩৪),পিতা মৃত আমির হোসেন, মোঃ শামিম (৪১),পিতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বেলাল (২৬) পিতা মোঃ শাহজাহান এবং নাজমুল হুদা (৭০),পিতাং মৃত সেকান্দর আলী, মিনহাজুল হুদা (৩২),পিতা নাজমুল হুদা, সর্বসাং দেবিপুর। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আলমগীর হোসেন সুমন, মোঃ শামিম, বেলাল হোসেনকে কুমিল্লা প্রেরণ করা হয়। এবং নাজমুল হুদাকে কুমিল্লায় রেফার করা হলেও তিনি চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগকারী পক্ষের মুসল্লী রুবেল খন্দকার জানান, এই মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় মসজিদ কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করে নাজমুল হুদা বক্তব্য দিতে গেলে স্থানীয় একাধিক মুসল্লী তাকে বক্তব্য না দেওয়ার জন্য বলে। এসময় নাহমূল হুদার ছেলে মিনহাজুল হুদা তার বাহিনী নিয়ে মুসল্লীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। ওই তর্কবির্তকের একপর্যায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এতে মসজিদের মুসল্লী আলমগীর হোসেন সুমন (৩৪),মোঃ শামিম হোসেন (৪১),বেলাল হোসেন (২৬) আহত হয় এবং তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
অন্য পক্ষ মিনহাজুল হুদা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মসজিদটি আমাদের বাপ চাচারা করেছে, গত ৩০ বছর যাবৎ মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে।
সম্প্রতি উপজেলা পর্যায় নেতা ও স্থানীয় মুসল্লীরাসহ একজন ইমাম নিয়োগ দেয়। ঘটনার দিন পূর্বের ও বর্তমান নিয়োগকৃত ইমামদের নিয়ে জুম্মানামাজ শেষে আমরা বাবা নাজমুল হুদা উপস্থিত মুসল্লিদের উদেশ্য বক্তব্য দিতে গেলে একটি গ্রুপ বাঁধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্য তর্কবির্তকের একপর্যায় হাতাহাতি শুরু হয়। এতে আমার বাবা ও আমি আহত হই। আমরা চাঁদপুর সদস হাসপাতালে চিকিৎসারত রয়েছি।
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম রনি জানান, আমি ওই মসজিদের মুসল্লী নয়, আমি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসারত রয়েছি। এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে এলাকার একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আদৌও এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং জানি না। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের প্রতি আমি তীব্র নিন্দা ও ঘৃনা জানাচ্ছি।
অপর দিকে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় মুসল্লীরা মসজিদের মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিরোধ ও সংঘর্ষ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।




