শাহরাস্তিতে ডাকাতিয়ায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল ধ্বংস

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দেশীয় মাছের প্রজনন, মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ফুট নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার খিলা বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে একদল অসাধু জেলে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও রিং জাল পেতে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নদী থেকে আনুমানিক ১ হাজার ফুট অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’-এর ধারা ৫ এবং ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫’ অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী মাছের প্রজনন, পোনা মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি, রিং জালসহ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
শাহরাস্তি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সাদাফ বলেন, “চায়না দুয়ারি ও রিং জাল শুধু মাছ নয়, পোনা, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীকেও নির্বিচারে নিধন করে। ফলে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “ডাকাতিয়া নদী ও এর শাখা-খালগুলো এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডার। সরকারি মৎস্য সংরক্ষণ নীতিমালা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।
নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে কেউ জলজ পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। অভিযানকালে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




