ফরিদগঞ্জে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা চেষ্টা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্বামীর সঙ্গে অভিমানে নিজ শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক গৃহবধূ।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের উত্তর হাসা গ্রামের মিজি বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা গৃহবধূ মিতু আক্তার (১৮) দুই সন্তানের জননী। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান।
পরে তাকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, রোগীর শরীরের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশাচালক রাকিব হাসানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মিতুর বিয়ে হয়।
তাদের সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে ছোট মেয়ের বয়স মাত্র আড়াই মাস। দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, মিতুর শাশুড়ির কারণে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ হতো। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে স্বামী রাকিব রাগের মাথায় স্ত্রীকে মারধর করে বলে ওঠে, “তুই মরে যা।”
পরে সে কাজে চলে যায়। বিকেলে রাকিব বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরেই মিতু অভিমান করে ঘরে ঢুকে নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে পাঠায়। রাকিব বলেন, আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে অভিমান করে ঘরে থাকা কেরোসিন তেল ঢেলে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি দৌড়ে গিয়ে পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে মেডিকেলে নিয়ে যাই। এখন তার অবস্থা খুবই খারাপ। স্থানীয়রা জানান, স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তিই এ মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলম জানান, নিজ গায়ে কেরোসিন তেল গৃহবধূর আত্মহত্যার সংবাদ পেয়েছি। শুনেছি তার স্বামীর সাথে অভিমান করেই এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




