চাঁদপুর সকাল

ফরিদগঞ্জে ভেকু দিয়ে কৃষি জমির মাটি কাটার প্রতিযোগিতা

৫ মাস আগে
ফরিদগঞ্জে ভেকু দিয়ে কৃষি জমির মাটি কাটার প্রতিযোগিতা

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম, পাইকপাড়া উত্তর, সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব।

এতে হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার শত শত বিঘা কৃষি জমি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে এভাবে মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মানচিত্র থেকে উধাও করে দিচ্ছে কৃষি জমি। এতে জমি ফসল উৎপাদনের উপযোগিতা হারানোর পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটও।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। যদিও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। এরপরও সেগুলো রক্ষা হচ্ছে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা, পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের মধ্য শাশীয়ালী, জয়শ্রী ও আসৎকুয়ারী এবং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আইটপাড়া ও বড়গাঁও এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটার হিড়িক চলছে। সংশ্লিষ্টরা ভেকু দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গভীর গর্ত করে কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ফসলি জমি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।

এভাবে গভীর গর্ত করায় পাশের কৃষি জমিও ভেঙে পড়ছে। এছাড়া মাটি ব্যবসায়ীদের থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না খাস জমি, খালও। এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায়। এভাবে কৃষি জমি নষ্ট করায় উপজেলায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, ‘কোনও ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তাহলে তিনি অনধিক ২ বৎসরের কারাদণ্ড বা দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

অন্যদিকে ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করিয়া কোনও ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহণ করিতে পারিবেন না। যদি কোনও ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ এমন আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে অবৈধভাবে মাটি পরিবহণের ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের শব্দে আমরা ঠিকমতো পড়ালেখা ও ঘুমাতে পারি না। দিনের বেলায়ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিজমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ১৩ হাজার ১’শ হেক্টর আবাদি কৃষি রয়েছে, কৃষি জমির ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পরিমাণ থাকে টপ সয়েল। টপ সয়েল কেটে ফেলার কারণে জমি অনূর্বর হয়ে পড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ইতিপূর্বে আমরা কয়েক জায়গায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে জরিমানা করেছি এবং যেখানেই সংবাদ পাই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।