চাঁদপুর সকাল

চাঁদপুরে জাল স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী হাজতে

৪ মাস আগে
চাঁদপুরে জাল স্ট্যাম্প দিয়ে মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী হাজতে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ আমলী আদালতে দায়ের করা একটি নালিশী মামলায় ভুয়া দলিল দাখিল ও শপথগ্রহণপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি প্রদানের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সিআর মামলা নং ৯৪/২০২৬ (হাজীগঞ্জ)-এ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নান ২৬ জানুয়ারি সোমবার ২০২৬ আদেশ প্রদান করেন।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান (৩৬) আদালতে হাজির হয়ে আরিফ মৃধাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/১০৯ ধারায় নালিশ দায়ের করেন। নালিশে তিনি দাবি করেন, তাঁর মালিকানাধীন “আখি সু হাউজ” দোকানটি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৪৫০ টাকায় ১নং আসামীর নিকট বিক্রি করা হলে আসামিরা আংশিক টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট ২১ লাখ টাকা পরিশোধ না করে পরে তা অস্বীকার করেন।
আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীকে পরীক্ষা করে তাঁর হলফনামা রেকর্ড করেন।

এ সময় বাদীর দাখিলকৃত তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প (গখ ৭৬৬৪৭৫৪, ৭৬৬৪৭৫৫ ও ৭৬৬৪৭৫৬) পর্যালোচনা করে আদালতের সন্দেহের উদ্রেক হয়। স্ট্যাম্প পরীক্ষায় দেখা যায়, সেগুলো ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তারিখে ক্রয় করা হলেও চুক্তিপত্রে সম্পাদনের তারিখ হিসেবে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি উল্লেখ রয়েছে। নালিশী দরখাস্ত, জবানবন্দি এবং দলিলের তথ্য একত্রে পর্যালোচনায় আদালত মত দেন যে, উক্ত তারিখটি বাদী জ্ঞাতসারেই উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তীতে সৃজিত স্ট্যাম্পে পূর্বের তারিখ দেখানো হয়েছে।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় নালিশী মামলার কোনো সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়নি, বরং বাদীর এই কার্যকলাপ দণ্ডবিধির ৪৬৪ ধারায় বর্ণিত মিথ্যা দলিল প্রস্তুত, ৪৬৫ ও ৪৭১ ধারায় জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার এবং ১৯৩ ধারায় শপথগ্রহণপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের অপরাধের শামিল।

এমতাবস্থায় আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় বাদীর আনীত নালিশী মামলা খারিজ করেন এবং একই সঙ্গে বাদীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৯৩/৪৬৫/৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী), সদর, চাঁদপুর আদালতে উপস্থাপন করার জন্য বেঞ্চ সহকারীকে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশক্রমে হাজীগঞ্জ আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী সুলতানা জাহান বাদী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, বাদী আদালতে জ্ঞাতসারে ভুয়া স্ট্যাম্প দাখিল করে মিথ্যা জবানবন্দি প্রদান করেছেন, যা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।